অপরূপবাংলা ট্যুরিজম বিডির সাথে সাজেক ভ্রমন | NewsExclusive24.Com
মূলপাতা / ফিচার / অপরূপবাংলা ট্যুরিজম বিডির সাথে সাজেক ভ্রমন

নিউজ এক্সক্লুসিভ

ডেস্ক রিপোর্ট

For Advertisement

অপরূপবাংলা ট্যুরিজম বিডির সাথে সাজেক ভ্রমন

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৫:০২

সাকিবুল হ্নদয়,সাজেক থেকে ফিরে।।
রাংগামাটি জেলার বাঘাইহাট উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে সাজেক। সাজেক হচ্ছে বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুপরিচিত ভ্রমণ স্থান, যেখানে প্রায় সারা বছরই যাওয়া যায় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে । সাজেক মূলত পাহাড়ি একটি পর্যটন কেন্দ্র, যার মূল আকর্ষণ হচ্ছে পাহাড়ের চূড়ায় বসে খুব কাছ থেকে মেঘ দেখা, মেঘ ছোঁয়া। সাজেকের কটেজগুলোও দারুণ সুন্দরভাবে বানানো, যার বেশিরভাগ কটেজই পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করার কথা মাথায় রেখে বানানো, যে কারণে সাজেকে কাটানো বা কটেজে কাটানো মূহুর্তগুলো সেরা মূহুর্তের লিস্টে স্থান করে নিচ্ছে । সাজেকের হাজাছরা ঝর্না- রিচাং ঝর্না, রয়েছে আলুটিলা গুহা। সাজেকে পাহাড়ি ধাঁচের খাবারগুলোও মন কাড়ে। ব্যাম্বো চিকেন, চিকেন গুতাইয়া, হাঁস ভুনা, ডিম কেবাং, শুটকি ফ্রাই, বাশ কুড়ুল এর সব্জি, ব্যাম্বো বিরিয়ানি এখানের বিখ্যাত খাবার। এছাড়াও প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন সব খাবার।
সাজেক :
বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার সাজেক উনিয়ন এর আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। রাঙ্গামাটি জেলার ছাদ নামে পরিচিত সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮০০ ফুট উচুতে অবস্থিত। আসে পাশের গ্রাম গুলতে বসবাস করা লুসাই, ত্রিপুরা এবং পাংখয়া উপজাতিদের বসবাস সাজেক ভ্যালি কে আরও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে। কমলা লেবুর সাথে সাথে কফির চাষ ও সাজেকে হয়ে থাকে। সাজেক বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নের নর একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ । সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত। সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা , দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু , পূর্বে ভারতের মিজোরাম , পশ্চিমে খাগড়াছছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত । সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন ; যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল । সাজেক রুইলুইপাঙা এবং কংলাক পাঙা এই দুটি পাঙার সমন্বয়ে গঠিত ।সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগঙাছছড়ি থেকে । সাজেক নামক নদী হতে সাজেক পর্যটন এর নামকরণ হয়ে ছে ।
মেঘের রাজ্য সাজেক :
যেখানে পাশদিয়ে উড়ে যাবে শুভ্র মেঘের দল নিকট দূরত্বে বিছিয়ে রাখে মেঘের বিছানা। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রুইলুই পাড়ার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭২০ ফুট । আর ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত কংলাক পাহাড়-এ কংলাক পাড়া অবস্থিত । সাজেকে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে । সাজেকের কলা ও কমলা বেশ বিখ্যাত। যাতায়াতখাগঙাছছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেকের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। আর দীঘিনালা থেকে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার। রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক যাওয়া যায়। সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগঙাছছড়ি থেকে । খাগঙাছছড়ি শহর অথবা দীঘিনালা হতে স্থানীয় গাছড়িতে (জিপ গাছড়ি, সি.এন.জি, মটরসাইকেল) করে সাজেকে যাওয়াই হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম। এক্ষেত্রে পথে পড়বে ১০ নং বাঘাইহাট পুলিশ ও আর্মি ক্যাম্প । সেখান থেকে ভ্রমণরত সদস্যদের তথ্য দিয়ে সাজেক যাবার মূল অনুমতি নিতে হবে। একে আর্মি এসকর্ট বলা হয়। আর্মিগণের পক্ষ থেকে গাছড়িবহর দ্বারা পর্যটকদের গাছড়িগুলোকে নিরাপত্তার সাথে সাজেক পৌছে দেয়া হয়। দিনে সকাল দশটায় ও বিকেল তিনটা ব্যতীত আর্মি ক্যাম্পের পক্ষ হতে সাজেক যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না। পর্যটকদের সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সাজেকগামী জিপ গাছড়িগুলো স্থানীয়ভাবে চান্দের গাছড়ি নামে পরিচিত । সাজেক যাওয়ার পথে বাঘাইহাটে হাজাছঙা ঝর্ণা অবস্থিত। অনেক পর্যটকগণ মূল রাস্তা হতে সামান্য ট্রেকিং করে গিয়ে ঝর্ণাটির সৌন্দর্য উপভোগ করে থাকেন ।
প্রাকৃতিক রূপ :
সাজেকে সর্বত্র মেঘ, পাহাঙও আর সবুজের দারুণ মিতালী চোখে পড়ে । এখানে তিনটি হেলিপ্যাড বিদ্যমান ; যা থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যায় । সাজেকে একটা ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হচ্ছে এখানে ২৪ ঘণ্টায় প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখা মিলে । কখনো খুবই গরম, একটু পরেই হঠাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যায় মেঘের চাদরে ; মনে হয় যেন একটা মেঘের উপত্যকা । সাজেকের রুইলুই পাঙা থেকে ট্রেকিং করে কংলাক পাহাঙ-এ যাওয়া যায়। কংলাক হচ্ছে সাজেকের সর্বোচ্চ চূঙা । কংলাকে যাওয়ার পথে মিজোরাম সীমান্তের বঙও বঙও পাহাঙও , আদিবাসীদের জীবনযাপন, চারদিকে মেঘের আনাগোনা পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত আদিবাসীদের উৎসবের সময় তাদের সংস্কৃতির নানা উপকরণ পর্যটকরা উপভোগ করতে পারেন ।
সতর্কতা :
সাজেকগামী রাস্তা পাহাঙী বলে, পাহাঙী রাস্তায় গাছড়ি চালানো অভিজ্ঞতা বিহীন চালকদের নিয়ে না যাওয়াই উত্তম। এক্ষেত্রে স্থানীয় জিপ গাড়ি ( চান্দের গাড়ি ) ভাঙা করার পরামর্শ দেয়া হয় । সাজেকে এখনো সাজেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই ; পর্যটকদের থাকার কটেজগুলোতে সোলার সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। সাজেকের আদিবাসীগণ অত্যন্ত বন্ধুসুলভ , তাই পর্যটকদেরকেও আদিবাসীদের সাথে সুলভ আচরণ করার ও আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা , সংস্কৃতি , পোষাক ইত্যাদি নিয়ে কোনো প্রকার বিরূপ মন্তব্য না করার অনুরোধ করা হয়। নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতেই পর্যটকদের বিজিবি প্রদত্ত পরামর্শগুলো মেনে চলা বাঞ্চনীয়। রাতে থাকতে চাইলে সাজেকে রয়েছে বেশ কিছু রিসোর্ট যেখানে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় পেতে পারেন সাধারণ ও এসি সব ধরনের রুম। তবে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে চাইলে দেড় থেকে দুহাজার টাকায় সাধারণ মানের নন এসি রুমে থাকাই ভালো। আগে থেকে রুম বুকিং দিয়ে যাওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। সাজেকের প্রথম গ্রাম রুইলুই পাড়া। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা এক হাজার ৮০০ ফুট। এরা লুসাই আদিবাসী। লুসাই ছাড়াও এখানে ত্রিপুরা ও পাঙখোয়াদেরও কিছু বসতি চোখে পড়ে। সাজেকে রুইলুই পাড়ায় মূল রাস্তার দুপাশেই রয়েছে বেশকিছু খাবারের হোটেল, যেখানে প্রতি বেলায় ১০০ থেকে ২০০ টাকায় খেতে পারবেন অনায়াসে। তবে লোক বেশি হলে আগে থেকে খাবারের অর্ডার করে রাখতে হয়। সাজেক এর রুইলুই পাড়া থেকে এক থেকে দেড় ঘণ্টার ট্রেকিং করে দেখে আসতে পারেন লুসাই ঝর্ণা। স্থানীয় গাইড লুসাই ঝর্ণা বললেও এটি কমলক ঝর্ণা নামেই বেশি পরিচিত। তবে স্থানীয়দের অনেকের কাছেই এটি পিদাম তৈসা বা সিকাম তৈসা ঝর্ণা নামে পরিচিত। সাজেক এর শেষ গ্রাম কংলক পাড়া। কংলক পাড়া সাজেকের সবচেয়ে উঁচু পাড়া । এটিও লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত। কংলক পাড়া থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায় যেখান থেকে কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি। সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির বিভিন্ন রূপ দেখা সম্ভব। কখনো রোদ ঝলমলে আকাশ তো কখনো বৃষ্টি, আবার কখনো হারিয়ে যাবেন মেঘের ভেতর কুয়াশার চাদরে। এক কথায় অসাধারন এক পর্যটন কেন্দ্র সাজেক।

For Advertisement
NewsExclusive24 প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: